মুক্তবাণী রিপোর্ট : কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লেগে যে নয় বাংলাদেশি মারা গেছেন, তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও তিন বছর বয়সী শিশুকন্যা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তিন বছরের ছেলে সন্তান শর্ণশিষ দত্ত ও শশুর মো. আকরাম আলীর মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাতে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের একাধিক ঘরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি সংবাদ সংস্থা এএনআইর বরাতে জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী আগুনে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আগুনের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া প্রাণহানির অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে। গভীর রাতে হোটেলে থাকা অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকায় আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে অনেকেরই দেরি হয়। ফলে বের হওয়ার আগেই হোটেলের বিভিন্ন অংশ ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে রয়েছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। আগুনের কারণ ও হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
দুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জন নিহত হন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই হোটেলে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।