নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুর সদর উপজেলার গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, গাড়ি ভাঙচুর ও আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে সাড়ে চারশত জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার রাজা মিয়ার বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান।
সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই, নিরস্ত্র) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সেখানে রাজা মিয়ার একতলা বাড়ির জানালার গ্লাস ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ চতুর্দিকে ইটের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তা রক্ষায় রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লা নামে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
উদ্ধারকৃতদের নিয়ে পুলিশ রওনা হওয়ার পর রাত প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে আক্কাস আলী বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে তাদের পথরোধ করে তিন থেকে চারশত লোকের এক বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা সরকারি গাড়ি ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
পুলিশ সদস্যরা শান্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বাধা অমান্য করে গাড়ির ভেতরে ঢুকে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সরকারি গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি ও মারধর করা হয়, এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (২২ আগস্ট) কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাসুদ আলম বাদী হয়ে ২২ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩শ থেকে ৪শ জনকে আসামি করে একটি মামলা (মামলা নম্বর-৫৬) দায়ের করেছেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর, পথরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।