সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই নবম পে স্কেলের গেজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। পে স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছর জুলাই মাসে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও শেষে তা আর প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে এবারও নির্ধারিত সময়ে গেজেট না হলে নতুন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এসব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই নবম পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নতুন পে স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া হিসেবে সমন্বয় করা হবে।

এদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বকেয়া অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ না করে কয়েক ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে এতে সরকারের ওপর এককালীন বড় আর্থিক চাপ কমবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরো একটি বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকে অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অক্টোবর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন। এর আগে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সচিব কমিটির আরেকটি বৈঠকের পরই পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে, ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর এবং চলতি অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।