মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

দেরিতে টেস্ট করায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের সাত দিনের বেশি সময় পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি না পাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেট থেকে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষা করে এমফিটামিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

এর আগে রোববার দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ইনচার্জ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলগেটেই দুই আসামির ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ প্রহরায় মেডিকেল কলেজ থেকে দুই টেকনোলজিস্ট সেখানে যান। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে ফলাফল সিলগালা করে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, এমফিটামিন দীর্ঘদিন রক্ত বা মূত্রে থাকে না। সাধারণত প্রস্রাবে এটি পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়। এরপর আর তা পাওয়া যায় না। যেহেতু আসামিরা সাত দিনের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন, তাই ডোপ টেস্টে এমফিটামিনের উপস্থিতি না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।