বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়ণই একমাত্র সমাধান: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অপসারণের কাজ ইসরাইল এখনো চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎস। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি কেবল স্থগিত করেছেন, বাতিল করেননি। খবর আল জাজিরার।

ওয়াইনেট নামক একটি ইসরাইলি প্রকাশনা সংস্থার আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাৎস জানান, গাজার জনসংখ্যা শূন্য করা—যাকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় ‘অভিবাসন’ বা ‘স্থানান্তর’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন—সেটিই একমাত্র সমাধান হিসেবে রয়ে গেছে।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাৎস বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, এটি ছাড়া গাজার কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নেই।’

ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা গত প্রায় তিন বছর ধরে বলে আসছেন যে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে জাতিগতভাবে ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করা। এর আগে কট্টর ডানপন্থী ইসরাইলি কর্মকর্তারা গাজার জনসংখ্যা কমানোর খোলাখুলি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পও তার প্রেসিডেন্সির শুরুতে এই ধারণার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ছিটমহল নিজেদের দখলে নেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়, যার মধ্যে ওয়াশিংটনের মিত্র সরকারগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ট্রাম্প একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি স্পন্সর করেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে থাকার অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ওই ১২ দফার চুক্তিতে বলা হয়েছিল, কাউকে গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে না এবং যারা যেতে ইচ্ছুক তারা যেতে ও ফিরে আসতে পারবেন। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, স্থানীয়দের গাজায় থাকতে উৎসাহিত করা হবে এবং একটি উন্নত গাজা গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরাইল গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে পুনর্গঠন কাজ আটকে রেখেছে।

কাৎস বলেন, ইসরাইল সরকার সমুদ্রপথে, আকাশপথে এবং যেকোনো উপায়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সীমান্তবর্তী দেশ মিশর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্য যেসব দেশ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে, তাদের মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ওয়াশিংটন গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি কেবল স্থগিত করেছে।

কাৎস বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্প এটি বাতিল করেননি, বরং স্থগিত রেখেছেন। জাতিগতভাবে এলাকা খালি করার এই পরিকল্পনা নিয়ে সব সময় আলোচনা চলছে। আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত সবার মঙ্গলের জন্য এর বিকল্প নেই। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন এবং সেই মুহূর্তটি আসবে।’

গত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ইসরাইলি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজায় সংঘটিত নৃশংসতা তদন্তকারী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

গত জুলাই মাসে ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেন, যার মধ্যে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলার সমাপ্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইসরাইল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, গাজা সম্পূর্ণভাবে সামরিকীকরণ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না।

কাটসের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, গত বছর গাজা-মিশর সীমান্ত সফরের সময় তিনি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির আরেক সিনেটর জেফ মার্কলি সতর্ক করেছিলেন যে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিকে জাতিগতভাবে খালি করার পরিকল্পনা করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভ্যান হোলেন লিখেছেন, ‘এখন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেই স্বীকার করলেন যে সেটাই তাদের লক্ষ্য। আমাদের এই অপরাধে অংশীদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে।’