শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে আইএসডিবির সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করেছে সরকার।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুলাইমান আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তি সই হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে এর ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি স্বাক্ষর করেন।

এই প্রকল্পের আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারির বছরে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে জানিয়ে উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন দিনের সফরে বুধবার ঢাকায় এসেছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট আল জাসের। তার এই সফরে এ চুক্তি সই হল। উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

আজারবাইজানের বাকুতে গত জুনে অনুষ্ঠিত আইএসডিবির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের ৩৬৭তম সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি গড়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১০ সালে পরিশোধনাগারটির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা হলেও অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা জটিলতায় সেটি বার বার পিছিয়ে যায়। নতুন এই চুক্তির মধ্য দিয়ে পরিশোধনাগারটির সম্প্রসারণ কাজের পথ খুলল।

চুক্তি স্বাক্ষরে আইএসডিবির প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, এই চু্ক্তি কেবলই লেনদেন নয়, বরং আরও বেশি কিছু। এটি প্রমাণ করে আইএসডিবি বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখে।

“দশকের পর দশক ধরে আইএসডিবি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের কাছে এই সদস্যপদের গুরুত্ব অনেক। আর সেটি কেবল অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। এটি গড়ে উঠেছে মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে পারস্পরিক বিশ্বাস, সংহতি ও যৌথ লক্ষ্যের ভিত্তিতে।”

তারেক রহমান বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এটি আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নিছক কোনো স্লোগান নয়। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই দশকের মধ্যেই অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।”

ইস্টার্ন রিফাইনারি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ কেবল জ্বালানি খাতের একটি বিনিয়োগ নয়, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

“এই চুক্তি প্রমাণ করে পারস্পরিক অংশীদারত্ব কী করতে পারে। এ অংশীদারত্ব আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবে পরিণত করে।…আমি আশা করি এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

পরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবির গ্রুপের চেয়ারম্যান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির নানা বিষয় নিয়ে তার মতবিনিময় হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।