রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

পরিচর্যায় বাচ্চা ফুটল পদ্মগোখরার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো অ্যানিমেল শেডে সংরক্ষণ ও পরিচর্যার পর পদ্মগোখরার ১৪টি ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে। দীর্ঘ ৪৬ দিন ধরে বিশেষ নজরদারি ও পরিচর্যার পর শুক্রবার উপজেলার পাখিমারা বাজার এলাকার অ্যানিমেল শেডে ডিমগুলো ফুটে ১৪টি বিষধর বাচ্চার জন্ম হয়।

গত ৪ আগস্ট আমতলী উপজেলার বান্দা এলাকায় একটি ঘরে সাপ থাকার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যান ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী কাওসার ওরফে ‘হৃদয় সাপ রেস্কিউ’।

সেখানে সাপটির সন্ধান না পেলেও ঘরের ভেতর তিনি দেখতে পান পদ্মগোখরার ১৪টি ডিম। পরে ডিমগুলো নিরাপদে উদ্ধার করে জেলা প্রশাসনের দেওয়া সংগঠনটির অ্যানিমেল শেডে নেওয়া হয়।

অ্যানিমেল শেডে নেওয়ার পর সর্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
ডিমগুলোকে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে সেগুলো নিরাপদ থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে ভ্রূণের বিকাশ ঘটতে পারে।

এ সময় ডিমের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডিমগুলোকে অযথা নড়াচড়া না করিয়ে নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। দীর্ঘ ৪৬ দিনের অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার একে একে ডিমের খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসে পদ্মগোখরার বাচ্চাগুলো।
অর্থাৎ, বাচ্চা ফোটানোর ক্ষেত্রে এখানে মূল বিষয় ছিল নিরাপদ পরিবেশে ডিম সংরক্ষণ, উপযুক্ত তাপমাত্রা-আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।

‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র কলাপাড়া টিম লিডার বাইজিদ মুন্সি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হয়েছে। সাধারণত পদ্মগোখরার ডিম ফুটতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে এ সময় কম-বেশি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি স্ত্রী পদ্মগোখরা সাধারণত ১০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে।
ডিম থেকে বের হওয়ার পরপরই বাচ্চাগুলো বিষধর থাকে এবং নিজেরাই চলাফেরা ও শিকার করতে সক্ষম।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও উপকূলীয় বন বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই বাচ্চাগুলোকে উপযুক্ত সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে।

কলাপাড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মগোখরা বিষধর সাপ হলেও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উদ্ধার করা বাচ্চাগুলোকে বন বিভাগের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এটি একটি মহতী উদ্যোগ। প্রাণিকুলসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ডিম থেকে ফোটা বিষধর সাপের বাচ্চাগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে অবমুক্ত করা হবে। অ্যানিমেল লাভার্স সংগঠনকে এমন উদ্যোগের জন্য স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশংসনীয় এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকুক।