নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক পাঁচটি নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার ভেহিক্যাল।
রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর প্রস্তাবিত গাবতলী কাঁচাবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নতুন যানের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সিইও, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সবসময় নগরবাসীকে একটি আধুনিক, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও সহজ করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ ইতালি থেকে সংগৃহীত পাঁচটি নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার ভেহিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত করা হলো।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই আধুনিক যানগুলোর মাধ্যমে দ্রুত সময়ে শহর থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে সরাসরি ল্যান্ডফিলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এগুলোতে উন্নত কন্টেইনার লোড ও আনলোডের সুবিধা থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ অনেক সহজ হবে।
কেবল এই পাঁচটি যানই নয়, বর্জ্য পরিবহন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে শিগগিরই ডিএনসিসির বহরে আরও ১০টি নতুন ভেহিক্যাল যুক্ত করা হবে।
বর্জ্য অপসারণের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রশাসক জানান, বর্তমানে ডিএনসিসি এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার টনেরও বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ কাজে ড্রাম ট্রাক, খোলা ট্রাক, কন্টেইনার ক্যারিয়ার ও কমপেক্টরসহ প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০টি গাড়ি নিয়োজিত থাকে।
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজ ভোর ৪টা থেকে টানা বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আগাম ড্রেনেজ সংস্কারের কারণে অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত রয়েছে। বিগত দুই মাস আগের ভারী বর্ষণে যেসব পয়েন্টে পানি জমেছিল, সেগুলোতে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নগরী আমাদের সবার। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তবে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। আপনারা সচেতন হয়ে সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ঢাকা উপহার দিতে পারব।