বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মিডিয়ার বয়কটের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে হেলিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিকপ্টার অবতরণস্থল বা হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে সিএনএনকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো ট্রাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি কাভার করেনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে হালকা বৃষ্টির মধ্যে বড় সোনালি কাঁচি দিয়ে লাল, সাদা ও নীল ফিতা কেটে হেলিপ্যাডের উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। পরে নির্মাণকাজে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি।

তবে অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্য টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। তাঁর অপেক্ষমাণ হেলিকপ্টারের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। সাধারণত হোয়াইট হাউসে কর্মরত টেলিভিশন ক্রুরা এ ধরনের অনুষ্ঠানের শব্দ স্পষ্টভাবে ধারণের ব্যবস্থা করে থাকে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মেরিন ওয়ানে করে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন ট্রাম্প। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন হেলিপ্যাড থেকে মেরিন ওয়ানের প্রথম যাত্রাকে ‘খুব সুন্দর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। এর পরদিন ওই তিন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচিতভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ভিডিও সরবরাহে সিএনএন সাধারণত পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের একটি পালাক্রমিক ব্যবস্থায় অংশ নেয়। সোমবার সিএনএনের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকায় এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও ফক্স নিউজও ব্যতিক্রমীভাবে ট্রাম্পের হেলিপ্যাড উদ্বোধন অনুষ্ঠান কাভার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর ফলে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের চেয়ে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান বিরোধই বেশি গুরুত্ব পায়। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার জন্যই হেলিপ্যাডটি ব্যবহার করেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে বয়কট করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা করেনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর ‘ন্যায্য’ আচরণ করার দায়িত্ব রয়েছে।

হেলিপ্যাড নির্মাণে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন:

হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত রেখেছেন ট্রাম্প। জুনে নতুন হেলিপ্যাডের কাজ শুরু হয়। এ জন্য হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের কলোনেডের পুরোনো টেনেসি ফ্ল্যাগস্টোন সরিয়ে কালো গ্রানাইট বসানো হয়েছে। ডিপ্লোম্যাটিক প্রবেশপথের প্রচলিত হাঁটার পথেও সাদা গ্রানাইট বসানো হয়েছে। সাউথ লনের আশপাশের অ্যাসফল্ট সড়কের কিছু অংশও সংস্কার করা হয়েছে।

ট্রাম্প জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, হেলিপ্যাড নির্মাণে বেসরকারি অর্থায়ন হবে এবং এর ব্যয় সর্বোচ্চ ৬০ লাখ ডলার হতে পারে। তবে মাটি সমতল করাসহ অতিরিক্ত কিছু কাজের কারণে প্রকল্পটির সঠিক ব্যয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, নতুন ও বড় আকারের হেলিকপ্টারগুলো হোয়াইট হাউসের লনে সরাসরি অবতরণ করলে ঘাসের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে নতুন হেলিপ্যাড প্রয়োজন ছিল।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি এয়ারক্রাফট হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করবে। নতুন বড় হেলিকপ্টার তৈরির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতার কারণেই তারা এ ব্যয় বহন করছে বলে জানান ট্রাম্প।

এর আগে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, এর ব্যয় বেসরকারি দাতারা বহন করবেন। পরে তাঁর প্রশাসন নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য কংগ্রেসের কাছে ১০০ কোটি ডলার চেয়েছে।