সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৯ জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন পে কমিশন গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “পে কমিশন নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। আমরা কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। আগামী সরকার হয়তো সেটি অনুমোদন দেবে বা চূড়ান্ত করবে। যেহেতু প্রক্রিয়াটি শুরু করা হয়েছে, তারা চাইলে এটিকে বাস্তবায়নে নিতে পারবে।

আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “ওদের সঙ্গে আমার জুমে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছে, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। ১৫ নভেম্বর আমার সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত বৈঠক হবে।”

তিনি জানান, আইএমএফ কিছু রিকমেন্ডেশন দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। “আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম, এটা আমরা স্বীকার করি। এর পেছনে জনগণের কর প্রদানে অনীহা এবং এনবিআরের কার্যক্রম বন্ধ থাকা অন্যতম কারণ। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি রাজস্ব আয় বাড়াতে,” বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, আইএমএফ সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। “খাদ্য খাতে আমরা ইতিমধ্যে ভালো করছি, তবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় আরও বিনিয়োগ দরকার,” মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ কতদূর এগোবে—এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা যা করেছি, এখন সেটাকে কনসলিডেট করব। সংস্কার কোনো একদিনে শেষ করার বিষয় নয়; এটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, সেটাকে প্যাকেজ আকারে সাজিয়ে আগামী সরকারের হাতে তুলে দেব।”

তিনি আরও জানান, কর সংস্কারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাধীন অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা দ্রুতই তাদের সুপারিশ দেবে।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা মোকাবিলাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টরের কিছু সংস্কার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়া হবে। এসব সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে আগামী সরকারের সময়েও।”

আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাওয়া যাবে কিনা—এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “ওরা এখনই রিভিউ শেষ করেছে এবং বলেছে, রাজনৈতিক সরকার আসার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। আমরা আপাতত তাড়াহুড়ো করছি না। ফেব্রুয়ারির দিকে, নির্বাচনের সময়ের কাছাকাছি তারা আবার রিভিউতে আসবে, তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য ইঙ্গিত করছে যে অন্তর্বর্তী সরকার মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে, বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়। পে কমিশন ও রাজস্ব সংস্কার—দুটি বিষয়ই তাই এখন অপেক্ষা করছে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণের ওপর।