নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি সাত দিনব্যাপী শোক পালন করবে। নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সকল কার্যালয়ে সাত দিন কালো পতাকা উত্তোলন থাকবে। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা এই সাত দিন কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।”
রিজভী আরও জানান, প্রতিটি দলীয় কার্যালয়ে দেশনেত্রীর জন্য সাত দিনব্যাপী কোরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের সময় পরে জানানো হবে।
এদিন ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ নানা জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
অবস্থার অবনতি হলে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। রাত ২টার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সংকটময়’ সময় অতিক্রম করছেন। তিনি বলেন, “উনার পরিবারের পক্ষ থেকে উনার সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীন নেত্রী’ হয়ে ওঠা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বড় সময় কেটেছে রাজপথের আন্দোলনে। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, জেল খেটেছেন; তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তিনি কখনো পরাজিত হননি।