নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ১০ হাজার সদস্য এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। জানাজা ও দাফনের প্রতিটি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, পুরো রাস্তায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ডিএমপির ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি সেনাসদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপিকে যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করা হবে।
প্রেস সচিব আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো কাভারেজ করতে পারবে। তবে দাফন কার্যক্রম শুধুমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সম্প্রচার করবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তর দিনাজপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হন।
স্বাধীনতাযুদ্ধের দিনগুলোতে বন্দিজীবন কাটানো দুই সন্তানের মা খালেদা জিয়া দেশের সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে বর্ণাঢ্য জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে অল্প বয়সেই বিধবা হয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং রাজনীতিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।