শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জয়শঙ্করের সফরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে না দেখার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কিংবা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের টানাপড়েন কমবে কিনা—তার উত্তর ভবিষ্যতে খুঁজতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। এছাড়া ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও ঢাকা সফর করেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পরে চলে গেছেন। এটি একটি ভালো জেসচার, এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ খোঁজা উচিত নয়। এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখাই ভালো।

জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কথাবার্তা হয়নি। সে রকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন—পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তার সঙ্গেও জয়শঙ্কর হাত মিলিয়েছেন। এটি কেবল সৌজন্যবোধ, যা সবাই মেনে চলে।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে যতটুকু কথা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যমূলক আলাপ, অন্যদের উপস্থিতিতে হয়েছে। ফলে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমণে ভূমিকা রাখবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, এর উত্তর ভবিষ্যতে খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও যথেষ্ট ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছিলেন। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন তা সবারই জানা। দেশের মানুষের মধ্যে দলমত নির্বিশেষে তার গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা ছিল।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবাই এ বিষয়টি স্বীকৃতি দেয়। তার মৃত্যুতে এবং জানাজায় সবাই অংশগ্রহণ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই দেখি।