শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ভিজিল্যান্স টিম গঠনের নির্দেশ

ইসি প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন ও অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’, ‘নির্বাচন মনিটরিং টিম’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতেই রিটার্নিং অফিসাররা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন, বিধিমালা ও প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব কমিটি দায়িত্ব পালন করবে, যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

রিটার্নিং অফিসারদের জন্য দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • কোনো মহলের প্রভাব বা হস্তক্ষেপে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে তারা কর্তৃপক্ষ বা জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হন।
  • জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের যৌথ সভা করে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  • ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা ও নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ ইউনিটকে নিবিড় টহল দিতে হবে।
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
  • ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার করতে হবে।

ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত হবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্দলীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সদস্য থাকবেন। তাদের কাজ হবে—

  • রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ।
  • নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে কি না তা তদারকি।
  • আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা তদন্ত কমিটিকে জানানো।
  • বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের ও পদক্ষেপ গ্রহণ।
  • প্রতিদিনের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো।

নির্বাচন মনিটরিং টিম তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন। তারা নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবেন।

এ ছাড়া ভোটারদের অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক, নারী ভোটারসহ সব শ্রেণির ভোটারকে নিরাপদে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার, গোলযোগপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং অর্থ ও পেশিশক্তি দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ টিম মোতায়েন করে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভোটদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ কর্মপরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানাতে হবে।