শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তরুণদের কর্মসংস্থান না হলে ৫ আগস্টের প্রত্যাশা ধ্বংস : তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে ৫ আগস্ট হোক কিংবা ৯০ বা ৭১—সব প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ তরুণ সমাজ। এই তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ২৫০ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, যার সবগুলো প্রয়োজন নেই। বিদেশে কর্মী পাঠাতে যেসব দক্ষতা অপরিহার্য, সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তারেক বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, ইউরোপ ও চীনে দক্ষ কর্মীর বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। আগামী ৫-১০ বছরে এসব জায়গায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে, তা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাদের ভাষা শেখানো এবং কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে আয় বাড়বে। বর্তমানে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকরা মাসে গড়ে ১০০ ডলার আয় করেন। প্রশিক্ষণ ও ভাষাজ্ঞান থাকলে তা ৩০০ ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে।

সম্পাদকরা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অতিথিরা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে হিংসা ও প্রতিহিংসার পরিণতি দেশ দেখেছে। তাই মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিভেদ যেন জাতিকে বিভক্ত না করে।

তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে তিনি দেখেছেন নতুন প্রজন্ম একটি দিকনির্দেশনা চাইছে। রাজনীতিকদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না হলেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করতে হবে।

নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জরুরি। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৭ হাজার মানুষ মারা গেছে। এতে অনেক পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব বিষয়েও চিন্তা করতে হবে। কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়ন নিয়েও ভাবতে হবে।

নারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, আর বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত নারীদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, দেশে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারগুলোকে ৫-৭ বছর সহায়তা দেওয়া হবে। একজন নারীকে সহায়তা দিলে তিনি পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে অর্থ ব্যয় করেন। এতে ধীরে ধীরে উপজেলা ও জেলার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

তারেক বলেন, দুর্নীতি এড়াতে এই পরিকল্পনা কোনো প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না। কৃষকের স্ত্রী, ইমাম সাহেবের স্ত্রী কিংবা ডিসির স্ত্রী—সবাই এ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি কৃষি কার্ড ও জনস্বাস্থ্যসেবার জন্যও একই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে না গেলে কোনো সম্পদ দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০-৮৫ শতাংশ নারী কর্মী হবেন। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াবেন।