শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ভয় ও সুবিধাবাদে নিপীড়িত সাংবাদিকদের পাশে নেই গণমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে গত ১৬–১৭ বছরে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ ভয়, চাপ ও সুবিধাবাদের কারণে নিপীড়নের শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘ বক্তব্য দেবেন না, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু নাম উচ্চারণ করবেন—যেসব নাম আজ না বললে আর কেউ বলবে না বলেই তার বিশ্বাস।

মাহমুদুর রহমান বলেন, “ব্যস্ত মানুষ বক্তৃতা দিয়ে চলে যান, অন্যের কথা শোনেন না—এটা আমি অসৌজন্যমূলক আচরণ মনে করি। তাই আজ আমি বক্তব্য না দিয়ে কয়েকজন নির্যাতিত সাংবাদিকের নাম বলেই শেষ করব।”

তিনি প্রয়াত সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় ভুয়া মামলায় তাকে কারাগারে রেখে চিকিৎসা ছাড়া মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় মূলধারার গণমাধ্যম নীরব ছিল।

প্রবীণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বছরের পর বছর কারাবরণ করতে হয়। অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ও পাশে থাকতে পারেননি—তবুও গণমাধ্যম থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি।

কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৮০ বছর বয়সী শফিক রহমানকেও মানবেতর অবস্থায় জেলে থাকতে হয়েছে। শীতের মধ্যে মেঝেতে শুয়ে থাকা, টয়লেটে যেতে না পারার মতো কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাকে। “এই ফ্যাসিবাদের সময়েও খুব কম মানুষ তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন,” মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান।

সাংবাদিক কনক সরোয়ারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারেক রহমানের একটি বক্তব্য লাইভ সম্প্রচারের ‘অপরাধে’ তাকে প্রায় এক বছর কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি তার বোনকেও ভুয়া মাদক মামলায় মাসের পর মাস কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেখানেও সংবাদমাধ্যমের বিবেক জাগ্রত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে হয়েছে এবং ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেননি। আওয়ামী লীগের নেতাদের ও ভারতীয় পক্ষের দেওয়া তথ্যকেই তিনি ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। “এই জন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন,” বলেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না এখানে কী ঘটেছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন যা বলেছে সেটাই শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যা বলছে সেটাই শুনছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা নয়। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ৫০ বছরের বাস্তব ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো।”