শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন তালিকা নিয়ে রিভিউ শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান রয়েছে। এ সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধানের বৈধতা দিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য আজ রোববার দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে। সেদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক।

গত বছরের নভেম্বরে দুজন আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি আবেদনটি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হয়ে আবেদনটি নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। এখন বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আরপিওর ১২(৩ক)(ক) বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি এর আগে জাতীয় সংসদের কোনো নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে ওই তালিকা প্রদানের প্রয়োজন হবে না।

ঢাকার একটি আসন থেকে ২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী মনোনয়নপত্র নেন। পরে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে আরপিও দফা ১২(৩ক)-তে সংশোধনী আনা হয়।

এই বিধান সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও আরপিওর ১২(১) ধারার পরিপন্থি উল্লেখ করে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। আবেদনকারী সাত ব্যক্তি হলেন—ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, মেজর (অব.) এস এম হারুনুর রশীদ, কাজী জাহেদুল ইসলাম, আইনজীবী এস এম আজমল হোসেন, মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ জাবের, মেজর (অব.) মো. জিয়াউল আহসান ও সালাহ উদ্দিন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, দফা (৩ক) সংবিধান পরিপন্থি নয়।

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা ২০১০ সালে লিভ টু আপিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় দেয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে যুক্ত করা সংক্রান্ত আরপিওর ১২(৩ক)-তে বেআইনি কিছু নেই।

ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দুই আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি গত বছর পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। আজ সেই আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।