মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চিকেন্স নেকের নিরাপত্তা : ২য় বিশ্বযুদ্ধের ৫ বিমানঘাঁটি সক্রিয় করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের জনগণের কাছে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুরি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারতের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের তৈরি বিমানঘাঁটিগুলো ফের সক্রিয় করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আপাতত ৫টি বিমান ঘাঁটি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।-সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এই ঘাঁটিগুলো জলপাইগুড়ির আম্বারি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি জেলায় অবস্থিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বলা হয়েছে, মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জেরে চিকেন নেক অঞ্চলে সৃষ্ট নিরাপত্তাগত উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লিতে আসীন কেন্দ্রীয় সরকার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে মিয়ানমার ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে জাপানি সেনাদের ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরায় কয়েকটি বিমানঘাঁটি করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার। বর্তমান বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলাতেও একটি বিমান ঘাঁটি করা হয়েছিল।

ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা সংবাদ পেয়েছেন যে বাংলাদেশের সরকার লালমনিরহাটের বিমানঘাঁটিকে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিমানঘাঁটিগুলো সক্রিয় করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কৌশলগত দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডোর কিংবা চিকেন নেকের গুরুত্ব ভারতের কাছে অসীম। কারণ ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই পথটিই ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাত প্রদেশকে দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। এছাড়া এই পথে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত আছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছিল জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) অভিযানে মিত্রবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদ ও যোগাযোগ কেন্দ্র। ত্রিপুরা, আসাম ও বাংলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত বিমানঘাঁটিগুলো সে সময় বার্মা অভিযান, চীন-বার্মা-ভারত থিয়েটার এবং লেডো (স্টিলওয়েল) সড়কভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সহায়তা করেছিল।

বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জেরে এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতের সামরিক উপস্থিতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরি জেলার লাচিত বরফুকান এলাকায় নতুন সেনা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।