বিশেষ প্রতিবেদক : অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীত যেন আরও বেশি জেঁকে বসেছে। বদলে যাওয়া আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে ছোট শিশুদের ওপরও। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, শিশুরা ভারী পোশাক গায়ে রাখতে চায় না, আবার পাতলা পোশাক হলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই অভিভাবকেরা খুঁজছেন এমন শীতপোশাক, যা শিশুকে উষ্ণ রাখার পাশাপাশি আরামে চলাফেরার সুযোগ দেবে।
শিশু পরিবহনের অন্যতম স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফায়েকা জাবীন সিদ্দিকা জানান, এ বছর সোয়েট শার্ট, সোয়েট প্যান্ট, হুডি ও জ্যাকেটের বেশির ভাগই ইউনিসেক্স। ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুই এগুলো পরতে পারবে। পাশাপাশি মেয়েশিশুদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে ফুলহাতা সোয়েট ফ্রক।
রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের শীতপোশাকে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আরামদায়ক কাপড়। নকশায় এসেছে কার্টুন, ভ্রমণ, প্রজাপতি, পাখি, আইসক্রিমসহ নানা থিম। চার বছর বয়সী মেয়ে আইরিনকে নিয়ে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের একটি ফ্যাশন হাউসে শীতের পোশাক কিনতে আসা মা আফসানা শিমু বলেন, ‘খুব ভারী বা আঁটসাঁট পোশাকে মেয়ে স্বস্তি পায় না। তাই এমন কিছু খুঁজছি, যেটা ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরতে পারবে।’
সারা লাইফস্টাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক সামিহা ইসলাম জানান, এ বছর শিশুদের শীতপোশাকের মধ্যে রয়েছে লম্বা হাতার টি-শার্ট, সোয়েটার, জ্যাকেট ও ডেনিম টপস। শিশুদের জন্য তৈরি জ্যাকেটে ব্যবহার করা হয়েছে ডেনিম, সিনথেটিক ও মিশ্রিত উপাদানের কাপড়।
শিশুদের শীতপোশাক এখন এমনভাবে তৈরি হচ্ছে যেন দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলায় কোনো অসুবিধা না হয়। গলা ও কান ঢাকা থাকলে শিশুরা শীত থেকে অনেকটাই সুরক্ষা পায়। তাই টুপি বা মাফলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ সময় হুডিওয়ালা সোয়েটার বা জ্যাকেটও কার্যকর।
রাজধানীর প্রায় সব শপিং মল ও ফ্যাশন হাউসে শিশুদের জন্য রয়েছে শীতপোশাকের বিশেষ আয়োজন। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, সীমান্ত স্কয়ার, নিউমার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, ক্লাব হাউস, শিশু পরিবহন, সারা লাইফস্টাইল, টুয়েলভ ক্লদিং ও ইনফিনিটিতে পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের শীতপোশাক।