শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

স্কুলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে তালাবদ্ধ শারমিন একাডেমি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর নয়াপল্টনে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ‘শারমিন একাডেমি’। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশি তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই স্কুলটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সব যোগাযোগ নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পুরো মাঠ ফাঁকা, নেই কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক। মাঝেমধ্যে কয়েকজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী এসে তালাবদ্ধ স্কুলের ভেতরে উঁকি দিচ্ছেন।

স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা থাকলেও আজ সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি। হঠাৎ করে স্কুল বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কেও তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে শারমিন একাডেমির ভেতরে এক শিশুকে বেধড়ক মারধরের একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলের একটি অফিস কক্ষে এক ব্যক্তি শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করছেন। ওই সময় পাশে বসে থাকা এক নারী শিশুটির হাত ধরে ছিলেন। দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনাটি নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতেই ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান গণমাধ্যমকে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। যাচাই-বাছাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটি শারমিন একাডেমির ঘটনা। নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের থানায় আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তবে তারা সময়ক্ষেপণ করছে।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।