শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ভাইরাল ঘটনার পর ডাকসু থেকে পদত্যাগ সর্বমিত্রের

ঢাবি প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-তে এ ঘোষণা দেন। সম্প্রতি ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার নির্দেশে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

তিনি আরও লেখেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। নিষেধ করলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।”

নিজের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”

পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি আরও লেখেন, “একই সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কারো প্রতি ক্ষোভ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আমি তা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”