যশোর প্রতিনিধি : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে দেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, আর এই পাল্লার মাপে ইনশাল্লাহ কোনো ধরনের কমবেশি করা হবে না। একটি দল ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন। আবার তারা মা-বোনেদের গায়ে হাত ও দিবেন এটা কাম্য নয়। যশোরে নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ভোট চাওয়া সবার অধিকার। আপনারা নারীদের গায়ে হাত তোলার কে? আমাদের নীরা কর্মীরা ভোট চেয়ে কি অপরাধ করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় একথা বলেন। জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে যশোর শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে যশোরে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সদর হাসপাতালের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভৌত অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব দাবি কোনো অযৌক্তিক বা অসম্ভব দাবি নয়; বরং এগুলো যশোরবাসীর ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রত্যাশা। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করবে।
জনসভায় উপস্থিত জনগণের প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী।
এ সময় জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যশোরে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করা হয়।
সকালে ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ ছয়টি আসনের প্রার্থীরা। এছাড়া বক্তৃতা করেন, জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো: নুরুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা আমানুল্লাহ, খেলাফত মসলিস ও খেলাফত আন্দোলনের জেলা নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের শহর ও জেলা সভাপতিবৃন্দ।
জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে যশোরের ময়দান মুখরিত হয়। সকাল ৮টায় জনসভার নির্ধারিত সময় থাকলেও সাড়ে সাতটায় শুরু হয়। ভোর থেকে মানুষ আমিরে জামায়াতকে একনজর দেখতে এবং তার মূল্যবান বক্তব্য শুনতে ছুটে আসেন।