নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার বা চুক্তি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দলের নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এই এজেন্ডাগুলো তৈরি করা হয়েছে। ফলে এই সনদকে বাস্তব রূপ দেওয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব এখন দলগুলোর ওপরও বর্তায়।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এটি কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিষয় নয়, বরং এটি অসংখ্য শহিদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি রূপরেখা।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে যে বাংলাদেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং অতীতে যারা অন্যায় করেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী বা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখনকার প্রধান লক্ষ্য।
মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তবে গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার, সবকিছুর চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতেই ন্যস্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার অসীম ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ ফ্যাসিবাদের যাতাকল থেকে মুক্ত হয়েছে। আমরা এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে হবে। সেই মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে সবাইকে স্বাধীন ও মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
‘একইসঙ্গে একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার পক্ষে সবাইকে প্রচার চালাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের ডিসটিংগুয়েসড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান এবং সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক।
ওই গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।