আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের হামলায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে তীব্র গোলাগুলির মধ্য দিয়ে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। দক্ষিণ ইরানের শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার এ অভিযানে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ও বিশেষ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে লেখেন, “উই গট হিম!”—অর্থাৎ নিখোঁজ এয়ারম্যানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি অভিযানের প্রশংসা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা তাঁকে পেয়েছি! প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় আমাদের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। আমাদের অসাধারণ একজন ক্রু সদস্য, যিনি একজন সম্মানিত কর্নেল—আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে তিনি এখন পুরোপুরি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
ট্রাম্প জানান, তাঁর নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই ক্রুকে ফিরিয়ে আনতে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল। এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার তেহরানের বাহিনী এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করলে দুইজন ক্রু সদস্য ইজেক্ট করে বেরিয়ে যান। তাদের একজনকে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধার করা হলেও অন্যজনের অবস্থান অজানা ছিল।
যাকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনি ভূপাতিত বিমানের ‘ওয়েপন সিস্টেম অফিসার’ ছিলেন। বিমানটি ইরানি সেনারা বিধ্বস্ত করার পর সেটি থেকে বের হয়ে যেতে সমর্থ হন তিনি। ওই সময় আঘাত পান এ বিমান সেনা। কিন্তু তার হাঁটার শক্তি ছিল। এর আগে বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়।
এই বিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল পুরো দুঃস্বপ্নের মতো। কারণ বিমানের পাইলট ও অপর ক্রুকে ধরার জন্য অভিযান শুরু করেছিল বিপ্লবী গার্ড। একই সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আটক করতে ৫০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের পুরস্কার ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সশস্ত্র ইরানি যাযাবর গোষ্ঠীগুলোকেও তাকে ধরতে তৎপর হতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
মার্কিন বাহিনী দ্রুত এলিট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট মোতায়েন করলেও শনিবার পর্যন্ত নিখোঁজ কর্মকর্তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন অভিযানে তাকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। আর অভিযানটি চালায় বিশেষ কমান্ডো ইউনিট।
তখন তাদের সাহায্য করতে অসংখ্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। তাকে ধরার জন্য বিপ্লবী গার্ডের সেনারা এগিয়ে আসার সময় তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে মার্কিন বাহিনী। ওই ক্রুকে উদ্ধারের পর সব মার্কিন সেনা ইরান থেকে বের হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
এটি চলমান সংঘাতে প্রথম ঘটনা, যেখানে শত্রুপক্ষের হামলায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।