নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। রায় উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মো: হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ একাধিক নেতা পলাতক আছেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। তদন্তে এর অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রসিকিউশন বিশ্বাস করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে এবং প্রত্যাশিত রায় পাওয়া যাবে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন, আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় থাকে।