বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

‘পুলিশের বড় কর্তাদের বাঁচিয়ে ছোটদের সাজা’

রংপুর প্রতিনিধি : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হয়ে ওঠা রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া জানান আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।

মকবুল হোসেন বলেন, “ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলের গলা টিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়নি। আরও কঠোর সাজা দেওয়া দরকার ছিল। অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে, বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে ছোটদের সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আমার দাবি, যারা পালিয়ে গেছে তাদের ধরে এনে ফাঁসি দিতে হবে।” তিনি জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আরও বেশি আসামির ফাঁসি হলে খুশি হতাম। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। পৃথক ধারায় এ তিনজনের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও হয়েছে।

মামলায় মোট ৩০ আসামির সবাই দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, আটজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। অপর একজনের হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দণ্ডিতদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।