বিজ্ঞান ডেস্ক : উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম বন্য শিম্পাঞ্জি দল নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা এই দলটি গত আট বছর ধরে কার্যত এক ধরনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তারা সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। একসময়ের বন্ধুদের এমন খুনি হয়ে ওঠার ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘এনগোগো’ শিম্পাঞ্জি দলটি একসময় প্রায় দুইশো সদস্যের বিশাল সম্প্রদায় ছিল। সাধারণত শিম্পাঞ্জিদের দলে সদস্য সংখ্যা হয় ৫০ জনের মতো। কিন্তু এই দলটি আকারে অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়ায় খাবারের সংকট ও স্ত্রী শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে মিলনের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়। এর সঙ্গে অসুস্থতায় কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরায়। শেষ পর্যন্ত দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—‘ওয়েস্টার্ন’ ও ‘সেন্ট্রাল’।
২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ওয়েস্টার্ন দলের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে সেন্ট্রাল দলের ওপর হামলা চালাতে থাকে। এসব হামলায় পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ও শিশু শিম্পাঞ্জি টার্গেট হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও ১৭টি শিশু শিম্পাঞ্জি নিহত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও চারটি মৃত্যু যোগ হয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮।
গবেষণার প্রধান লেখক অ্যারন স্যান্ডেল জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা শিকারকে কামড়ে দেয়, পেটায়, টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং লাথি মারে। মাঝে মাঝে স্ত্রী শিম্পাঞ্জিদেরও এতে অংশ নিতে দেখা গেছে। অধ্যাপক জন মিতানি বলেছেন, “গতকালের বন্ধু কীভাবে আজকের শত্রুতে পরিণত হল তা মেনে নেওয়া কঠিন। সম্ভবত এরা নিজেদের সাফল্যেরই শিকার হয়েছে।”
গবেষকরা এ ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ১৯৭০-এর দশকে তানজানিয়ায় শিম্পাঞ্জিদের একটি দল ভেঙে যাওয়ার উদাহরণ মিলেছিল, তবে সেটি ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপট। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, শিম্পাঞ্জিদের এই সহিংসতাকে সরাসরি মানুষের আচরণের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না, যদিও কিছু মিল রয়েছে।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্স-এ।