মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার : দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারই লক্ষ্য

মুক্তবাণী রিপোর্ট : বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রথমবারের মতো একজন রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ভারত।

সাবেক মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনীতিবিদ বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ভাবনা থেকেই একজন রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ধারণাই তাকে এ পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঢাকার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক সাজাতে দিনেশ ত্রিবেদীর এ নিয়োগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
উভয় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকায় তাঁর পক্ষে এ জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ সামলানো সহজ হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির এক বিশেষ মেলবন্ধনের কথা মাথায় রেখেই দিল্লির সাউথ ব্লক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। ভাষাগত নৈকট্য এবং দুই বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তার নাড়ির টানকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির মৈত্রীর সেতুবন্ধন মজবুত করতে চাইছে ভারত সরকার। অভিজ্ঞ এই নেতার নিয়োগ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বৃদ্ধিতে নতুন গতি আনবে। শেখ হাসিনার পতন এবং পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের এক সংকটময় মুহূর্তে হাইকমিশনার হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন, সীমান্ত বাণিজ্য এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো অমীমাংসিত রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান চাওয়াগুলো হলো- নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, ভারতের মধ্য দিয়ে স্থল বাণিজ্য পথের সুবিধা এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা।

অন্যদিকে ভারতের প্রধান উদ্বেগ হলো কানেকটিভিটি প্রকল্প, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রিবেদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক নিয়মের বাইরে গিয়ে কৌশলী ও বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে আরও সাবলীলভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং পেশাদার কূটনীতিকদের তুলনায় বেশি খোলামেলা তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং সরাসরি যোগাযোগের ক্ষমতা ত্রিবেদীর একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তিনি আমলাতান্ত্রিক স্তরগুলো এড়িয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারবেন। তবে ত্রিবেদীর রাজনৈতিক নমনীয়তা একদিকে যেমন সুবিধা দেবে, অন্যদিকে এটি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাবে যদি দ্বিপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো অসঙ্গতি দেখা দেয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ক্ষতি করতে পারে।