সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি
জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে।