মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

টঙ্গীতে বাবা-ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সোহান

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীর উত্তর বনমালা রোডে বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে হত্যার শিকার সোহেল রানার বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান। রোববার রাতভর পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে মনের ক্ষোভ থেকে সে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশকে জানায়।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, সাইফুর টঙ্গী ফাইসন্স রোডের পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় (ক্যাজুয়াল) মেশিন অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন। তার আপন খালাতো বোনের সাথে সাইফুরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল । এমনকি তার সাথে ওই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার আলাপ আলোচনাও চলছিল পারিবারিকভাবে। এরমধ্যে সাইফুরের ছোট ভাই সাকিব ওই মেয়ের সাথে প্রেমে জড়ায় এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে । এতে সাইফুর তাকে (সাকিব) তার বয়সের চেয়ে ৮-১০ বছরের বড় খালাতো বোনের সাথে মেলামেশা করতে বারণ করেন । এঘটনায় দুই ভাইয়ের মধ্যে গত শনিবার রাতে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়লে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার পরে সুযোগ বুঝে সাইফুর তার ছোট ভাই সাকিবের হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। পরে ঠান্ডা মাথায় ধারালো ব্লেড দিয়ে সাকিবের হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে খাট থেকে নিচে নামিয়ে সাকিবের হাত-পায়ের বাধন খুলে দেয়। একপর্যায়ে পাশের কক্ষে থাকা তাদের বাবা সোহেল রানা (নেশাগ্রস্ত) অবস্থায় হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলায় পরিস্থিতি খারাপ হবে আঁচ করতে পরে তাকে ধরে নিয়ে বনমালা রেললাইনে বসিয়ে রাখে। নেশারঘোরে তিনি সরে যেতে না পরায় ওই লাইনে চলাচলরত একটি ট্রেনের ধাক্কায় পাশে ছিটকে পড়ে তিনি মারা যান।
নেশাগ্রস্ত বাবার অপকর্ম ও ছোট ভাইয়ের যন্ত্রনায় খালাতো বোনের সাথে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই সোহান এ নৃশংস হত্যাকান্ডের পথ বেছে নিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সোহানকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠিয়েছেন।

এব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, সাইফুর রহমান সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে সে তার বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত: রোববার ভোররাতে টঙ্গীর উত্তর বনমালা রোডের নিজ বাসা থেকে সাকিবুর রহমান শোয়েবের (১৭) লাশ ও তার বাবা সোহেল রানার (৪৮) লাশ বনমালা রেললাইন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং সোহেল রানা প্রবাসজীবন শেষে দেশে এসে রাজমিস্ত্রীর জোগালীর কাজ করতেন। একপর্যায়ে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।