বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পেনাল্টিতে ড্র করে দ্বিতীয় লেগে তাকিয়ে আর্সেনাল-অ্যাতলেটিকো

স্পোর্টস ডেস্ক : আর্সেনাল ২০০৬ এবং অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ২০১৬ সালে সর্বশেষ বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছিল। দুই দলের সামনেই এবার লম্বা সময় ধরে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে নামতে না পারার আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষেও উভয় দল ভালোভাবে সেই সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে। কারণ দুই পেনাল্টিতে পাওয়া গোলে ১-১ ড্র নিয়ে ফিরেছে আর্সেনাল-অ্যাতলেটিকো।

বুধবার দিবাগত রাতে মাদ্রিদের মেট্রোপলিটনে স্বাগতিক অ্যাতলেটিকো সবমিলিয়ে এগিয়ে ছিল গানারদের চেয়ে। প্রায় ৫২ শতাংশ পজেশন নিয়ে তারা ১৮টি শট নেয়, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৪টি। বিপরীতে ১১ শটের ২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে সফরকারী আর্সেনাল। ৪৪ মিনিটে স্পটকিকে প্রথমে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন ভিক্টর গিওকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে একই কায়দায় গোল করে হুলিয়ান আলভারেজ অ্যাতলেটিকোকে সমতায় ফেরান।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে দিয়েগো সিমিওনের দল প্রথম ভালো সুযোগ পায়, আলভারেজ কয়েকজনের বাধা এড়িয়ে শট নিলেও আটকে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। খানিক বাদেই প্রথম সুযোগ পেয়ে আর্সেনালের মার্টিন ওডেগার্ড শট নিলে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধায় পরাস্ত হন। এভাবে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত থাকলেও কেউই বলার মতো কিছু করতে পারছিল না। ৩০ মিনিটে ননি মাদুয়েকের বাঁকানো শট গানারদের জন্য কার্যকরী হতে পারত, কিন্তু সেটি বেরিয়ে যায় গোলপোস্ট ঘেঁষে।

বিরতির আগে আর্সেনাল লিড পাওয়ার উপলক্ষ্য পায় গিওকেরেসকে অ্যাতলেটিকো ডিফেন্ডার নিজেদের বক্সে ফেলে দেওয়ার সুবাদে। ইংলিশ ক্লাবটির এই সুইডিশ স্ট্রাইকার বুলেট গতির শটে পেনাল্টি ঠিকঠাক কাজে লাগিয়েছেন। পিছিয়ে পড়া অ্যাতলেটিকো মরিয়া হয়ে ওঠে বিরতির পর। মিনিট দুয়েকের মাথায় আলভারেজের ফ্রি-কিক বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। মিনিট ছয়েক পর এই আর্জেন্টাইন তারকার কাছ থেকে বল পেয়ে আদেমোলা লুকমান শট নেন গোলরক্ষক বরাবর। ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় অ্যাতলেটিকো, আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের হাতে লাগার পর মনিটর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি।

আলভারেজ সফল স্পটকিকে স্কোরলাইন ১-১ করেন। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি আলবিসেলেস্তে ফরোয়ার্ডের দশম গোল। দুর্ভাগ্য সঙ্গী না হলে একটু পরেই অ্যাতলেটিকো লিড পেতে পারত। আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের শট ক্রসবারে লেগ ফিরলে হতাশা বাড়ে। তার আরেকটি শট পরাস্ত হয় প্রতিপক্ষ একজনের গায়ে লেগে বাইরে চলে গেলে। মাদ্রিদের ক্লাবটি বড় সুযোগ হারায় ৭৪ মিনিটে। লুকমান ওয়ান অন ওয়ানে আর্সেনাল গোলরক্ষক রায়াকে ফাঁকি দিতে পারেননি।

চার মিনিট পরেই এবেরেচি এজে ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু ভিএআর দেখে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ফলে অপরিবর্তিত থাকে স্কোরলাইন। ফিরতি লেগে আগামী মঙ্গলবার আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে অ্যাতলেটিকো।