বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে এ সময় সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন, তার কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া। তিন নম্বর ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ করেছিল শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট। এই প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে, এজন্য দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে বিদেশে ফেরি করে তারা নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি দুর্বৃত্তের হাতে ইসলামী ব্যাংকে তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

নহিদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?’