বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা ডা. তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষদের আশ্রয় দিয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তার বক্তব্যে বলেন, “আজকাল আমাদের খুব বেশি করে রাজাকার-আলবদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই যে আমরা এখানে (জামায়াত সদস্যরা) বসে আছি, আমরা তো কেউ রাজাকার ছিলাম না, আলবদরও ছিলাম না। যদি আপনারা সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেন, তবে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা।”

তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ি ছিল বর্ডারের কাছে এবং বাড়িটি বেশ বড় ছিল। যারা ইন্ডিয়াতে মাইগ্রেট করতে যেতেন, তারা প্রথমে আমাদের ওখানে এসে আশ্রয় নিতেন। আমরা তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতাম। এছাড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা আমরা পাহারা দিতাম। যখন সেনারা দূরে থাকত, তখন আমরা গাইড করে মানুষকে ইন্ডিয়া পার করে দিতাম। সুতরাং এই দাবি করার কারণ অন্য কোনো দলের নেই।”

দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির (টু-থার্ড মেজরিটি) দাপট ও অহংকার অতীতে অনেক নেতার জন্য শুভকর হয়নি উল্লেখ করে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে অনেক সময় ‘ইরোগেন্স’ বা ঔদ্ধত্য তৈরি হয়, যা মানুষকে ক্ষুব্ধ করে।”

তাহের বলেন, “উপমহাদেশের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, শেখ মুজিবুর রহমান এমনকি শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার সময়েও আমরা টু-থার্ড মেজরিটি দেখেছি। কিন্তু এর পরিণতি সবসময় সুখকর হয়নি। ক্ষমতা পেলে ‘যা ইচ্ছা তাই করতে পারি’—এমন মানসিকতা থেকে অঘটন ঘটে। আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করব, অতীত থেকে শিক্ষা নিন।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা ঐক্যমত্যের কথা বললেও এখন সংসদে একটি ভিন্ন চিত্র এবং ‘হোস্টাইল এনভায়রনমেন্ট’ বা শত্রুতামূলক পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি, যা জাতিকে হতাশ করবে।