সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আটলান্টিকে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভাইরাস, তিনজনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে রহস্যময় ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অজানা উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে প্রমোদতরীটির তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।-
সূত্র: আলজাজিরা।

এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্তত একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া একটি বিরল ও মারাত্মক রোগ।

আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরীটিতে গত কয়েক দিনে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার’ লক্ষণ দেখা দেয়। রোববার এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করেছে, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে একজনের লাশে ভাইরাসের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আরও পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে প্রবল সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে একজন আক্রান্ত যাত্রী দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, প্রাদুর্ভাবটি অত্যন্ত গুরুতর এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে জানিয়েছেন, প্রমোদতরীতে প্রথমে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা যান, যার মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও একই উপসর্গে আক্রান্ত হন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তরের পর জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এএফপি-র তথ্যমতে, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা অন্য এক আক্রান্ত ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে মৃত ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্রের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এটি ফুসফুসে সংক্রমণসহ রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের কারণ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরীতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারিবিদ্যাগত বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণও চলমান রয়েছে যাতে এর উৎস এবং সংক্রমণের ধরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

প্রমোদতরীর বাকি যাত্রী ও ক্রুদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আরও দুই যাত্রীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মহাসাগরের মাঝখানে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।