বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুদ্ধ বন্ধের দিকে এগোচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র : নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ছাড় এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে মার্কিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের দ্বারপ্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজের বিশ্বাস, এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষে হবে। এই সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি কাঠামোও তৈরি করা হবে।-সূত্র: এক্সিওস।

বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

দুই পক্ষ এই সমঝোতা স্মারকে রাজি হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেবে। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ইরানের জব্দ করে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে এবং নৌ অবরোধ তুলে দেবে।

অপরদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে দেবে।

তবে যদিও এগুলোর কোনো কিছুতেই দুই দেশ এখনো চূড়ান্তভাবে সম্মতি জানায়নি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত যতটা একমত হয়েছে, বর্তমানে এটি সবচেয়ে নিকটতম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে মতানৈক্য অনেকটাই কমেছে।

তবে সমঝোতা স্মারকে যেসব শর্ত আছে সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। এরফলে যুদ্ধ আবার নতুন করে শুরু হতে পারে। অথবা বর্তমান পরিস্থিতি আরও গভীর হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাপক হামলা আর পাল্টা হামলা হয়ত হবে না, কিন্তু কোনো সমাধানও হবে না।

মার্কিন কর্মকর্তারা এক্সিওসের কাছে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানি নেতৃবৃন্দ অনেকটাই বিভক্ত। ফলে তাদের একমত হওয়ার বিষয়টি কঠিন হবে। এছাড়া এই প্রাথমিক চুক্তিও না হতে পারে বলে সন্দেহ তাদের।

এক পৃষ্ঠার যে সমঝোতা স্মারকের কথা বলা হচ্ছে সেখানে ১৪টি দফা রয়েছে। এগুলো নিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ট্রাম্প হরমুজে তার নতুন অভিযান থেকে সরে এসেছেন।
এক্সিওস জানিয়েছে, এই সমঝোতা স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেবে। এরপর ৩০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে। যেখানে হরমুজ খোলা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আর এ আলোচনা হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ অথবা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
আলোচনা যখন চলতে থাকবে তখন ধীরে ধীরে ইরান হরমুজ থেকে বিধিনিষেধ তুলে দেবে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানের অর্থ ছাড় দেবে। যা সবই ধীরে ধীরে হবে।
আর আলোচনা যদি ভেস্তে যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ এবং সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
এক্সিওস জানিয়েছে, ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে সেটি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এ মুহূর্তে ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে। যা ১৫ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।
এরআগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের কথা বললেও ইরান ৫ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
এরসঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টিও সমঝোতা স্মারকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে পরিদর্শন করতে দিতে হবে।
এছাড়া ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের ব্যাপারেও আলোচনা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা হতে পারে।