বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পল্লী বিদ্যুতের ১৪ খুঁটি পড়ে গেল সড়কে, শিক্ষিকার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে সড়কে পড়ে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের শিমুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষিকার নাম শিউলি বেগম (৪৫)। তিনি শিমুলিয়া এলাকার মৃত হাসেন সরকারের মেয়ে এবং দুই সন্তানের জননী। তিনি তুমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

আহতরা হলেন—বক্তারপুর এলাকার তন্ময় (১৬) ও তুমুলিয়া মিশন এলাকার পূজা রানী দেবনাথ (২০)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকালে শিমুলিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন-সংলগ্ন সিমেন্টের খুঁটি হঠাৎ ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে। এ সময় বৈদ্যুতিক তারের টানে আরও অন্তত ১৩ থেকে ১৪টি খুঁটি একে একে পড়ে যায়। এতে সড়কজুড়ে বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে পড়ে এবং শর্ট সার্কিট হয়ে বিকট শব্দ হয়, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় একটি অটোরিকশা ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খুঁটি ভেঙে তার ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অন্তত তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে খুঁটি ও তার অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও একই এলাকায় একযোগে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছিল। তবে সে সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানিয়েছে, খুঁটি স্থাপনে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের বিধি অনুযায়ী, একটি খুঁটির মোট দৈর্ঘ্যের এক-ষষ্ঠাংশ মাটির নিচে স্থাপন করার কথা। সে হিসাবে ৫০-৬০ ফুট লম্বা খুঁটিগুলো আরও গভীরে পোঁতা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো মাত্র ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরে পোঁতা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।