মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে দেশজুড়ে বড় গরুর আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার রায়তলা গ্রামে সবার নজর কেড়েছে কুচকুচে কালো রঙের এক বিশাল ষাঁড়—‘কালাবাহাদুর’। প্রায় ৯ মণ ওজনের এই গরুটি এখন রায়তলা গ্রামের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন একনজর কালাবাহাদুরকে দেখতে।
আড়াই বছর বয়সী এই বিশাল ষাঁড়টির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৬ থেকে ৭ ফুট। এর মালিক মাওলানা নাছির উল্লাহ জানান, প্রায় এক বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন ও মমতায় তিনি গরুটিকে লালন-পালন করছেন। এর আগে এলাকারই এক ব্যক্তি শখ করে গরুটি পালন করেছিলেন, পরে মাওলানা নাছির উল্লাহ নিজের সন্তানের মতো আদরে এটিকে বড় করে তোলেন।
তিনি জানান, কালাবাহাদুরকে কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিদিন তিন কেজি ভুসি, খড় ও তাজা ঘাস খাইয়ে একে বড় করা হয়েছে। এ ছাড়া নাছির উল্লাহ কলাসহ বিভিন্ন ফল কালাবাহাদুরকে খাওয়ান।
তিনি বলেন, ‘গরুটাকে কখনো শুধু পশু মনে হয়নি, নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই আদর করেছি।
আল্লাহর রহমতে কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই এত সুন্দরভাবে বড় হয়েছে।’
বিশাল আকৃতির হলেও কালাবাহাদুরের স্বভাব খুবই শান্ত। মালিককে দেখলেই সে একেবারে শান্ত হয়ে যায়। প্রতিদিন নিয়ম করে গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখায় গরুটির শরীর যেমন সুস্থ ও চকচকে, স্বভাবও তেমন নম্র।
ইতিমধ্যেই বাজারে কালাবাহাদুরের দাম উঠেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।
তবে গরুটির প্রতি গভীর আবেগের কারণে বিক্রির কথা উঠলেই মালিকের চোখেমুখে এক ধরনের মায়া ফুটে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, কালাবাহাদুর শুধু একটি গরুই নয়, বরং ভালোবাসা আর প্রাকৃতিক পরিচর্যার এক চমৎকার উদাহরণ।