মুক্তবাণী রিপোর্ট : কক্সবাজারে যাওয়ার পথে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে ভুলবশত রেখে যাওয়া পাকিস্তানি এক শিশুকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিশুটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির নাম নাফিসা। তার বাবা সালমান পাকিস্তানের নাগরিক।
পরিবার নিয়ে দুটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার তারা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।
১১ সদস্যের পরিবারটি শনিবার ভোরে দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুরে অবস্থিত জায়তুন রেস্তোরাঁয় নাশতা করেন।
এরপর পরিবারটি দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করেন। এ সময় ভুলে একটি শিশুকে রেস্তোরাঁয় ফেলে যান তারা।
জাইতুন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটি প্রথমে কান্নাকাটি করলেও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দ্রুতই তাকে সামলে নেন। মোবাইলফোনে খেলার মাধ্যমে শিশুটিকে ব্যস্ত রাখেন। পাশাপাশি হোটেলের ফেসবুক পেজে ঘটনা জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। ঘটনাটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ ছাড়া জানিয়ে রাখা হয় নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ থানাকে।
রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, পরিবারটির ১১ জন সদস্য, চালকসহ অন্তত ১৪ জন দুটি গাড়িতে করে এসে জাইতুন রেস্তোরাঁয় বসে নাশতা করছেন। এ সময় তারা গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন। যাওয়ার সময় ভুলে শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরে ফেলে চলে যায় পরিবারটি।
জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী এ কে এম লুৎফুর রহমান বলেন, দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা, অন্যটিতে তার মা ছিলেন। এজন্য মা ভেবেছিলেন শিশুটি বাবার কাছে আছে। অন্যদিকে বাবা ভাবেন শিশুটি মায়ের কাছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর পরিবারটি চা-পানের জন্য যাত্রাবিরতি দেওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পারে। এরপর তারা তাদের ফেসবুক পেজে ওই পোস্ট দেখতে পান। তখন তারা কল করেন ও ভিডিওকলে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ফিরে শিশুটিকে নিয়ে যান।
পাকিস্তানি পরিবারটির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত পরশু পরিবারটি ১১ জন সদস্য নিয়ে করাচি থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসে। তারা বাংলাদেশে ১২ দিন থাকবেন। আজ তারা সবাই কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন।