শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রামগড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দকৃত চাউল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দকৃত ২৭ মে:টন চাউল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের জন্য তারা রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম এ করিমসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করেছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
প্রেস বিবৃতি অভিযোগ করা হয়,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দ মূলে গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নং- ২৫৮ ত্রান কার্যের অনুকূলে রামগড় উপজেলায় ১০ মে. টন চাউল এবং পৌরসভায় ৫ মে.টন চাউল ও অপর স্মারক নং- ২৫৯ এর অনুকূলে রামগড় উপজেলায় ১২ মে.টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়।
অভিযোগ করা হয়,রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে রামগড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম এ করিম কাগজেপত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১ মে. টন চাল বরাদ্দ প্রদান করেন। কিন্তু তার মধ্যে রামগড় পৌরসভার প্রতিষ্ঠান তৈছালা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা, চৌধুরী পাড়া মাদ্রাসা ও ইসলামপুর রশিদিয়া মাদ্রাসার অনুকুলে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অপর দিকে বালুখালী আলো তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোন অস্তিত্বই নেই।
এদিকে ১২ টি মসজিদ ও নূরাণী মাদ্রাসায় চাল না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৯ হাজার টাকা ও ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারে চাল না দিয়ে ৭ হাজার টাকা এবং একিিট মাদ্রাসায় চাল না দিয়ে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
কালাডেবা দারুলউলুম মাদ্রাসা,এতিম খানা ও হেফজ খানার সভাপতি হাফেজ আহম্মদ ভূইয়ার অভিযোগ, তার এই প্রতিষ্ঠানের নামে জনৈক ইমরানকে প্রকল্প চেয়ারম্যান এক মে:টন চাউল বিতরণ করা হলেও তিনি জানতেন না। প্রতিষ্ঠান এখনো কোন বরাদ্দ পায়নি এবং ইমরান নামে কাউকে চিনেন না।
রামগড় ইবদোয়ী তানীমুল কুরআন মাদরাসার সভাপতি মো: জসিম উদ্দিনের অভিযোগ,কাগজেপত্রে তার প্রতিষ্ঠানের এক মে:টন চাউল বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি কোন বরাদ্দ পাননি।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতি মে:টন চাউল ৩৩ হাজার করে বিক্রি করা হলেও টাকায় বিক্রয় করেছেন বলে জনশ্রুতি আছে।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম তারা বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্তক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যখন কোন প্রতিষ্ঠানে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয় সে প্রতিষ্ঠান ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যে ব্যক্তি বরাবর বরাদ্দ পত্র ইস্যু করা হয় সেখানে উক্ত ব্যক্তির ৩ টি নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়ন করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর বরাদ্দ পত্র ইস্যু করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ সত্যায়িত নমুনা স্বাক্ষর যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খাদ্যশস্য ছাড় করবেন।
চাউলের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই বলেও জানান তিনি।