নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা নানক এবং মায়া এরা দুজন বক্তব্য দিচ্ছেন। ঢাকাতে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কর্মীদের বলছেন। মোহাম্মদপুর যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে না নিতে পারে, যেটা নানক সাহেব বলছেন এবং সেটা ফেসবুকে আছে। এটাকে সরকার টু সরকার কোন কথা বলা যায় কিনা যে, এই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর জন্য।
বিষয়টি নিয়ে এক সাংবাদিক তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আপনার এই কথাটার সাথে আমি একমত যে, ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আমরা এটা নিয়ে আগেও আমাদের সরকার থেকে কথা বলা হয়েছে, এটা বলা হবে। কারণ এদের মধ্যে অনেকেই মামলার আসামি আছেন, এদের অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারো কারো সাজা হয়ে গেছে। কথা বলা দূরে থাকুক, তাদেরকে তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। আমরা সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কথা নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেটা চালিয়ে যাব।
সম্প্রতি তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সাতজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজের অভিযোগ এবং পরবর্তীকালে ওই নদীতে একাধিক মরদেহ উদ্ধার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়।
তুরাগ নিয়ে যেটা হয়েছে এক পক্ষ রক্তে লাল করেছে অন্যপক্ষ বলছে প্রোপাগান্ডা। সরকার বিষয়টা ক্লিয়ার করছে না কেন? যে আসলে দেখানে কি হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে। খুবই আনএক্সপেক্টেড, আমরা প্রায় বলি যেটা হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন ঘটনাগুলো কিভাবে হয়েছে। সরকারের যে স্বাভাবিক কাজ, সরকার এগুলো তদন্ত করবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা। এটা নিয়ে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও আছে, যেখানে ক্লিয়ারলি দেখা গেছে আসলে তারা পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই এটা হয়েছে।
এ ঘটনাকে আমরা দুঃখজনক মনে করি। আওয়ামী লীগ যারা এখনো করেন, এখনো যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি খুব দুঃখ পাই, আমি সত্যিই দুঃখ পাই, কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি এবং প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই-রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।