আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার জেরে ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। বুধবার (৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।-সূত্র: আল জাজিরা।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কসংকেত চালু করা হয়েছে। যেকোনো হামলার জবাব দিতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। জনসাধারণকে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা হামলা প্রতিহত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।
এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি ও কেশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, সিরিকের মৎস্য ও বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।