রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আজকের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই চিকিৎসার বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজকের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাত ধরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক হয়ে ওঠার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজকে কালের সাক্ষী ও জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান– প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এখান থেকে শুধু সেরা চিকিৎসকই নয়, এমন মহৎ মানুষ তৈরি হয়েছেন যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।

রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্কের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের পরম বন্ধু।
একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহার একজন রোগীর কাছে ঔষধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। সুতরাং, চিকিৎসকদের পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদও দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম– এই নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান জানান, জনগণ যাতে শুরুতেই স্বাস্থ্য পরামর্শ পায় সেজন্য সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

শিক্ষা খাতের পর এবার স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি (৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা) বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট (রিং), ভাল্ভ, পেসমেকার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১০১ শয্যার:
শহরমুখী রোগীর চাপ কমাতে সরকার দেশের বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য এসব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হবে। এছাড়া শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।