রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান, এটিই প্রকৃত সত্য: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এটিই প্রকৃত সত্য।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধ, জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)।

‘বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি শেখ মুজিব’:

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল ছয় দফার ভিত্তিতে এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে। তখন স্বাধীনতা কখনোই উচ্চারিত হয়নি।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ক্র্যাকডাউনের ঠিক আগে তাজউদ্দীন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তান আক্রমণ করতে যাচ্ছে। দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়, এখনো সময় আছে আপনি স্বাধীনতা ঘোষণা করুন।’ তখন শেখ মুজিব বলেছিলেন—‘না, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না। পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক, এটি আমি চাই না। সুতরাং স্বাধীনতার ঘোষণা আমি দেব না।’ তিনি ঘোষণাও দেননি।”

‘মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’:

খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে জাতি যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।’

স্পিকার বলেন, ‘এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, আর এটিই হলো প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়, অনুপ্রাণিত হয়। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ না করলে এ দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তো মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন আর চার হাজার সৈনিক ছিল। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী ছিল লাখের মতো। বাকিরা তো সাধারণ মানুষ, রিকশাওয়ালা, মুদিদোকানদার, বাসের হেলপার, পিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-যুবক। সব পেশার মানুষ এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। কিন্তু এই কথা ইতিহাসে নাই।’

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, বাঙালিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে বাঙালি। সেজন্য আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা যুদ্ধ দেখেনি তারা দুর্ভাগা, আর যারা দেখেছে, তারা সৌভাগ্যবান। বাঙালির আত্মত্যাগের সেই মহাকাব্যিক ইতিহাস ভবিষ্যতেও জাতিকে গর্বিত করবে।’

এসময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো জাতির চেয়ে আমরা ছোট নই।’

রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের স্বাগত ও মূল বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) জামিলউদ দীন আহসান, মেজর জেনারেল (অব.) জাহাংগীর কবির তালুকদার এবং নৌবাহিনীর কমডোর (অব.) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি জাকির আবু জাফর। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাবেক সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।