শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বন্যায় রফতানি খাতে বড় ক্ষতির শঙ্কা, ৯ দফা দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হওয়া এই সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত চার্জ মওকুফসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বন্যার কারণে আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যও বন্দরে পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে এবং রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, পোর্ট চার্জ ও শিপিং খরচ গুনতে হচ্ছে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে, যা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্মারকলিপিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করা, কনটেইনার ডেমারেজ ও অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ, দ্রুত পণ্য খালাসে বিশেষ ব্যবস্থা, কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সুবিধা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সময় বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে বন্দর কার্যক্রম সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। না হলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবি-
১. চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

২. ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে।

৩. পণ্য খালাসে বিলম্বজনিত কনটেইনার ডেমারেজ, পোর্ট চার্জ, শিপিং চার্জসহ সব ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

৪. পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

৫. দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে।

৬. কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বন্যার কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়াতে হবে এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ করতে হবে।

৮. ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন করতে হবে।

৯. আমদানি করা কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।