নিজস্ব প্রতিবেদক : সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।
২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে নির্মিত এ জাদুঘর বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক (স্লট) অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন বা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
তবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে সময়ভিত্তিক (স্লট) বুকিং করা দর্শনার্থীদের অনুমোদিত সময়েই প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় নির্বাচন করতে হবে।
জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে বিগত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর। বিভিন্ন গ্যালারিতে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম-নির্যাতনের তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিও প্রদর্শিত হচ্ছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাস্কর্যে আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।