মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা: আপিল শুনানি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে তৃতীয় দিনের মতো আপিল শুনানি চলছে।

‎মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি চলছে।

‎আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান এবং রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

‎এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি মারা যান।

‎নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় আংশিক পরিবর্তন করে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এ ছাড়া সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয় এবং ১১ জন খালাস পান।

‎হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু (যিনি পরবর্তী সময়ে কাশিমপুর কারাগারে মারা যান), হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। অন্যদিকে টিপু ও নুরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।

‎যে সাতজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তারা হলেন মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনু।

‎এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থেকে খালাস পান আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ থেকে খালাস পাওয়া চারজন হলেন মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী এবং জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন।