এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে একটি নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদান কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপপ্রচারে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বনবিভাগের লোকজন সাজেকে কলেজ প্রতিষ্ঠায় এবং পাঠদানে বাধা দিচ্ছে। তবে পরবর্তীতে অনুসন্ধানে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বনবিভাগের সূত্রে জানা যায়, এই অপপ্রচারের পেছনে মূলত ইউপিডিএফ এর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রস্তাবিত কলেজের নামে নিজস্ব জমি, নির্দিষ্ট পরিচালনা কমিটি, ব্যাংকে জমা অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু সাজেকে কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগীরা এসব নিয়মের একটিও না মেনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বাঘাইছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে বেআইনিভাবে ও জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী সরকারি জমিতে ইউপিডিএফ এর এই অবৈধ নির্মাণকাজে বাধা দেন।
বনবিভাগ থেকে বাধা আসার পর নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ইউপিডিএফ কৌশলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো শুরু করে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বাসিন্দারা ইউপিডিএফ এর এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। এমতাবস্থায় ইউপিডিএফ পাহাড়ের শিক্ষা খাতকে ঢাল বানিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছড়িয়ে নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফ প্রকৃতপক্ষে সাজেকে শিক্ষার প্রসারের জন্য নয়, বরং তাদের সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কায়েম করতে কলেজ স্থাপনার নামে সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সক্রিয় ক্যাডারদের সংগঠিত করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করছে ইউপিডিএফ। সেনাবাহিনী নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় ইউপিডিএফ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে কারণেই সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে বাধা পেয়ে ইউপিডিএফ তাদের একমাত্র বাধা মনে করা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে কলেজ স্থাপনের নামে সশস্ত্র রাজনীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কায়েমের চেষ্টা এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের মূল মাস্টারমাইন্ড ইউপিডিএফ এর সাজেক ইউনিয়নের বিচার বিভাগের সমন্বয়ক বাবুধন চাকমা এবং ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা।
পাহাড়ের সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা নিয়ে ইউপিডিএফ এর এমন অপপ্রচার, অস্ত্র সংস্কৃতি এবং সরকারি জমি দখলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়রা অবিলম্বে ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ সাজেক ইউনিয়নের বিচার বিভাগের সমন্বয়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এবং ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কতৃক অবৈধভাবে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে কলেজের নামে নির্মাণাধীন সন্ত্রাসী স্থাপনা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ।