শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

মসজিদে তালা মারার হুমকির নিউজ করায় টঙ্গীতে সাংবাদিক ও তার বাবার ওপর হামলা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের গুটিয়া গ্রামে মসজিদের কমিটিতে পদ না পেয়ে তালা মারার হুমকির সংবাদ প্রকাশ করায় শরীফুল ইসলাম নামের এক সাংবাদিক ও তার বাবার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সন্ত্রাসী জালাল ও তার সহযোগীরা তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​আহত শরীফুল ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করে আসছিল জালাল। সম্প্রতি গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে সভাপতি পদ না পেয়ে মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি দেয় সে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা গত ১১ জুলাই টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং সাংবাদিক শরীফ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল ও তার ক্যাডার বাহিনী সাংবাদিক শরীফ ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
​এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সন্ধ্যায় জালাল, তার ভাই ইব্রাহিম ও খোকনসহ একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিক শরীফ ও তার বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলায় শরীফের বাম চোখ গুরুতর জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় শরীফুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​ভুক্তভোগী শরীফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর শেষ করে দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
​এদিকে স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে নিহত টঙ্গীর বিতর্কিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুবের ভাতিজা এই জালাল। চাচার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের আধিপত্য বজায় রাখতে সে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিগত সময়ে তার পরিবার সাবেক সরকারের প্রভাবে অপরাধ অপকর্ম করলেও, গত ৫ আগস্টের পর নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে সে। গত ৩ জুলাই মসজিদ কমিটির সভা চলাকালে ঢুকে গালাগালি ও নথিপত্র ছুড়ে ফেলার পাশাপাশি গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকেও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
​জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম গাজীপুর জেলার সাবেক সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সোলায়মান স্বপন বলেন, “জালালের উচ্ছৃঙ্খল ও অপরাধমূলক আচরণে পুরো গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করে এবং দলীয় নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
​এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​তবে অভিযুক্ত জালাল তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছে।