গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে প্রকাশ্যে এক রাজমিস্ত্রি কাজের ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া (৪০) বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম।
ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ চুক্তিতে নিয়ে রাজমিস্ত্রিদের মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার প্রাইমস্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন (৫৫) ও তার সহযোগী মোশারফ হোসাইন প্রধান (৪৫), তকি তাজওয়ার সাকি (২০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচজন।
অভিযোগপত্রে সোহেল মিয়া উল্লেখ করেন, গত ১৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বেড়াইদেরচালা এলাকার প্রাইমস্টার স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁদের অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় ঠিকাদারি কাজ করা যাবে না বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
সোহেল মিয়া আরো অভিযোগ করেন, তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে স্কুলের সামনে একটি সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে রশি দিয়ে পেছন দিকে দুই হাত বেঁধে রাখা হয়।
পরে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
তবে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাইমস্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ঠিকাদার সোহেল মিয়া মদ্যপ অবস্থায় স্কুলের পাশ দিয়ে চিৎকার করতে করতে যাচ্ছিলেন। পরে তাঁকে আটক করলে উত্তেজিত জনতা মারধর করে।
তবে পিলারের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে বেঁধে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।