খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে মহালছড়ি থানা পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, নিকা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাদের এ দাবি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের ঘরে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণ ও ৭ লাখ টাকা ছিল। মৃত্যুর পর এসব স্বর্ণ ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নিকা ত্রিপুরার স্বামী সেতু ত্রিপুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সাধারণ আনসার হিসেবে কর্মরত। এ অবস্থায় ৮ বছরের শিখা ত্রিপুরাকে নিয়ে নিকা ত্রিপুরা থাকতেন। শুক্রবার শিখা ত্রিপুরা পাশ্ববর্তী নানীর বাসায় ছিল।
নিহতের ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা জানায়, সকালে পাশের গ্রামে থাকা নানির বাড়ি থেকে সে নিজ বাড়িতে আসে। এ সময় মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়ে স্কুলে চলে যায়। পরে সে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।
স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগো মারমার জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় যুবক ও মোটরসাইকেলচালক খোকন ত্রিপুরার সঙ্গে নিকা ত্রিপুরার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিকা স্থানীয় নিরঞ্জন কার্বারীর কাছে বিচার দেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও তাদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কার্বারী থৈঅংগো মারমা আরও জানান, শনিবার সকালে নিকা ত্রিপুরার মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন খোকন ত্রিপুরা নিয়ে যান। পরে ফোনে থাকা কলের নম্বরগুলো মুছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মহালছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্বজনদের ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয়দের পরকীয়ার দাবি এবং স্বর্ণ-টাকা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।